Xiaomi MI 3 Bangla Review | মাত্র ২,৫০০ টাকার রিফারবিশড গেমিং ফোন 🙄 | ৩ দিনের অভিজ্ঞতা।
হ্যালো গাইজ সবাই কেমন আছেন আশা করছি ভালই আছেন আপনি আছেন ট্রিকবিডি তে এবং সাথে আছি আমি অনামিকা,
তো চলুন বেশি কথা না বলে পোস্ট এর আসল ট্রপিকে চলে যাই।
বাই দ্যা ওয়ে ইন্ট্রো টা একটা ইউটিউব চ্যানেল থেকে কপি করা।🤣🤣😁

আপনি একটি ভাল ব্রান্ডের ফোন খুঁজছেন কিন্তু আপনার বাজেট যদি সেই ২-৩ হাজার টাকার মধ্যে পড়ে থাকে তাহলে খুবই খারাপ লাগে বলুন 🥲
শেষমেষ বাধ্য হয়ে লোকাল কোন বাটন ফোন কিনবো সস্তা চাইনিজ ফোন কিনবেন।
কিন্তু আমি যদি বলি সস্তা চাইনিজ ফোন এর থেকেও কম দামে ভালো ব্রান্ডের ফোন পাওয়া যায় জানি আমারে পিটাতে মন চাইবে 😁 তবে এটাই সত্য 😬
আচ্ছা আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি রিফারবিশড ফোনের দুনিয়ায় আচ্ছা রিফারবিশড ফোন আবার কি?🙄
আচ্ছা আমি বলছি রিফারবিশড ফোন হল এমন স্মার্টফোন যেগুলো বিভিন্ন সময়ে ওয়ারেন্টি বা যে কোন প্রবলেম এর কারনে ফেরত নিয়ে রিপেয়ার করে থার্ড পার্টি সেলার এর মাধ্যমে কম দামে বিক্রি করে দেয়া হয়।
এক কথায় বলতে গেলে এগুলো পুরনো সার্ভিসিং করা ফোন। কিন্তু নতুন মোড়কে যদি এগুলো বিক্রি করার সময় বলা হয় এগুলো একদম নতুন কিন্তু আমি বলব যে একদম নতুন না।
তো মার্কেটে মূলত এখন অনেক ধরনের ই স্মার্ট ফোন মানে রিফারবিশড স্মার্টফোন পাওয়া যায় তার মধ্যে সবথেকে কম দামে পাওয়া যায় xiaomi MI 3
যার দাম মাত্র ২,৫০০ টাকা ।
তো এই 2500 টাকায় আপনি পাচ্ছেন ২ গিগাবাইট র্যাম এবং ১৬ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ। হাজার আশি পিক্সেল এর ফুল এইচডি ডিসপ্লে।
১৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং ৩,০০০ মিলি এম্পিয়ার এর ব্যাটারি।
তো যাদের বাজেট কম তারা সস্তা চাইনিজ ফোন অথবা লোকাল ব্রান্ডের ফোন ইউজ করতে চাচ্ছেন না অথবা সেকেন্ডারি ফোন খুঁজছেন তাদের জন্য এই ফোনটি কেমন হবে।
সেটি জানতে চাইলে পুরো পোস্টটি পড়তে থাকুন।
শাওমি এমআই ৩ এই ফোনটি উদ্বোধন হয়েছিল ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে তো বোঝাই যাচ্ছে অনেক অনেক অনেক দিন আগের ফোন । কিন্তু ঠিক কতদিন ব্যবহার করা হয়েছে আই হ্যাভ নো আইডিয়া।
দাম যদিও একদম কম তাই বলে কি আমরা একদম নষ্ট ফোন কিনব নাকি? 🙄
আগেই বলে রাখি এই পোস্টটি কেউ স্পন্সর করেনি, সম্পূর্ণ আমার টাকায় কিনে আপনাদের জন্য এটা রিভিউ করছি, কারণ ফেসবুকে আপনারা এই ফোনটির ব্যাপারে রিভিউ আনার জন্য পাগল করে দিচ্ছিলেন আমাকে। আর আপনাদের রিকোয়েস্ট আমিও ফেলতে পারিনা সেই ধারাবাহিকতায় নিয়ে চলে ই আসলাম।
তো যেহেতু কেউ স্পন্সর করে নিয়ে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে ফোন কিনে তারপর রিভিউ করছি তাই একটা ভালো রিভিউ পাবেন কোনো রকম চাপাবাজি ছাড়াই 😁


ফোনটি বক্সে শুধুমাত্র চার্জিং ক্যাবল আরেকটি চার্জার পাবেন এত টুকুতেই সন্তুষ্ট থাকুন।☺️
কেবল টা ভালো মানের পাবেন কিন্তু চার্জারটা বাজে মানে আসল না নকল একটা চার্জার ঢুকিয়ে রাখে।🥺 তাই যারা ফোনটি কিনবেন একটা ভালো মানের চার্জার কিনে নিয়েন। ❤️
তবে বক্সের সাথে যে চার্জার টা দিয়েছে এটা নষ্ট না কিন্তু নকল হলেও মানে ফোন চার্জ করা যায় আর কি 🥴
তবে ফোনটিতে বিশ্বাস হবেনা ১৮ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং পর্যন্ত সাপোর্ট করে যেটা অবিশ্বাস্য। তো চাইলেই ফাস্ট চার্জার কিনে নিয়ে চার্জ করতে পারেন ফোনটি সমস্যা হবে না।❤️
আরেকটি ভালো ব্যাপার হচ্ছে ফোনটিতে পেয়ে যাবেন নোটিফিকেশন লাইট , যেটা নতুন ফোন গুলোর ক্ষেত্রে বিলুপ্তির পথে।
ফোনটা অনেক আগের হলেও দেখে ২০২১ সালের এই বাজেটের একটা ফিল পাওয়া যাবে।
আচ্ছা আপনার চাহিদা যদি হাজার আশি বা ফুল এইচডি প্লাস ডিসপ্লে দিকে হয়ে থাকে কিন্তু পকেটে পুরো ফাঁকা মানে ওই দুই তিন হাজার টাকা পড়ে আছে আর কি। তাহলে এই ফোনটি চোখ বুঝে নিয়ে নিন কারণ এই ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ফুল এইচডি আইপিএস প্যানেল।
সত্য কথা কি জানেন এই ডিসপ্লের ব্যাপারে আমি একটু অবাকই হয়েছে কারণ এই ২০২১ সালে ১০ হাজার টাকার নিচে ফোনে ফুল এইচডি ডিসপ্লে আশা করা যায় না।
আর এটার প্রাইজ তো মাত্র ২৫০০ টাকা যেটা একটা বাটন ফোনের দাম ও না।
যেটা কিন্তু সত্যি অবিশ্বাস্য। আর এই ফোনের ডিসপ্লে ৫ ইঞ্চি পাচ্ছেন আর সেইসঙ্গে ফুল এইচডি ডিসপ্লে ভালো লাগলো আর কি বিষয়টা। 😁
আর মাত্র ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে তে ফুল এইচডি রেজুলেশন থাকায় কালার ডিটেইলস পুরাই অস্থির লেভেলের ছিল ভাই।☺️ ডিসপ্লের ব্রাইট আমাকে ইমপ্রেস করেছে। ❤️
তবে ভাই হাত ভেজা থাকলে টাচ রেসপন্স খুবই বাজে পাবেন। তবে ওটা কোন ব্যাপারই না হাত ভিজিয়ে রাখবেন কেন 🙄😁 ফোন কিনবেন মাত্র ২৫০০ টাকা দিয়ে আর হাত ভিজিয়ে রাখবেন এটা কি মানা যায়😬

Xiaomi MI 3 উপরেই বলে দিয়েছি ফোনটিতে পাচ্ছেন ২ গিগাবাইট র্যাম এবং ১৬ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ।
আর হ্যা প্রসেসর কি পাচ্ছেন জানেন গেমিং প্রসেসর 🙄 কি প্রসেসর জানেন তাও আবার স্নাপড্রাগণ ৮০১ যেটা একসময়ের ফ্লাগশিপ গেমিং প্রসেসর ছিল।
বাট এখনো অনেক দামি ফোনেও স্নাপড্রাগণ ৬০০ এর পাওয়া যায় না সেখানে ৮০১ বিষয়টা অবাক করার মত কিন্তু।
ভালো প্রসেসর থাকায় ফোনটিতে পাবজি ফ্রী ফায়ার দুটোই খেলা যাচ্ছিল একেবারে স্মুথলি এটা অবিশ্বাস্য হলেও একদম সত্য কথা ☺️ আবারো বলছি ফ্রী ফায়ার একদমই স্মুথলি খেলা যাচ্ছিল।
তবে কম রেম হওয়াই পাবজি একটু প্রবলেম করছিল তবে খেলা যাই খেলা যাবে না এরকম কিন্তু না।❤️
তবে হ্যাঁ ফোনটি গরম হয়ে যায় যেটা একটি বিরক্তিকর বিষয় মানে খুব গরম না তবে স্বাভাবিকের থেকে একটু বেশি। হাত পুড়ে যাবে না সমস্যা নেই 😁
আরেকটি খারাপ ব্যাপার হলো ব্যাকগ্রাউন্ড অনেকগুলো অ্যাপ রাখলে স্লো কাজ করে 🙁 তবে কিছু করার নেই ২৫০০ টাকার ফোনে আবার কি আশা করব।😬
তবে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন এর প্রসেসর হওয়াই লোকাল ব্র্যান্ডের যেসব 2gb ram-এর ফোন আছে সেগুলো থেকে হাজারগুন বেটার পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে।
আর ফোনটি ট্রাই করবেন একটু রেম ক্লিন করে ব্যবহার করার তাহলে কোনো সমস্যা হবে না।

ফোনটির অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে পুরনো সেই অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্ষমেলো।
আর ইউ আই পাচ্ছেন mi9
এই ফোনটির ভালো দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এর এম আই ইউ আই ওএস কারণ আমরা মোটামুটি সবাই জানি পুরনো ইউ আই গুলো বিশেষ করে শাওমির কতটা বেটার এবং ইসমত।
তো সবশেষে বলবো এর ইউ আই ছিল অস্থির লেভেলের।
আর এই ফোনটির ক্যামেরা অতটা খারাপ না।
ফোনটা ব্যাক ক্যামেরা হিসেবে পাচ্ছেন ১৩ মেগা পিক্সেলের একটি ক্যামেরা এবং সামনে থাকছে মাত্র ২ মেগা পিক্সেলের একটি সেলফি ক্যামেরা।
আর এই বাজেটে পিকচার কোয়ালিটি যেমন আশা করা যায় তার থেকেও ভালো পাওয়া যাচ্ছিল।
তবে বলে রাখি অতটাও ভালো না কিন্তু নিচে একটা এর ভিডিও দিয়ে দিমু নি দেখে নিয়েন। ❤️
রাতের ছবিগুলোর নাইট মোডে তুললে মোটামুটি মানের কোয়ালিটি পাওয়া যায়। নয়েজের পরিমাণ অনেক কম থাকে সব মিলিয়ে মোটামুটি লেভেলের একটা ক্যামেরা বলা চলে।
আর সামনের ক্যামেরা এর ব্যাপারে আর কি বলব মাত্র ২ মেগাপিক্সেল এর ক্যামেরায় যেমন ছবি উঠবে তেমনি আর কি। খুব ভালো আবার খুব বাজে না মোটামুটি লেভেলের। ❤️
ফোনটির স্পিকার এর সাউন্ড ছিল মোটামুটি ভালোই মানে আমার কাছে ভালো লেগেছে, যথেষ্ট লাউড এবং ক্লিয়ার ছিল।
তো বিশেষ করে রিফারবিশড এবং অনেক আগের ফোনগুলোর ব্যাটারি ব্যাকআপ খুব একটা ভালো পাওয়া যায় না।
এর সব থেকে বড় কারণ হল এগুলো অনেক দিন ব্যবহার না হয়ে পড়ে থাকে তার জন্য।
যদি আপনি এই ফোনটিতে সারাদিন ইউটিউব দেখেন তাহলে টানা পাঁচ ঘণ্টার মতো ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবেন।
আর যদি শুধু হায় হ্যালো করেন তাহলে একদিন চলে যায় টেনেটুনে, মানে দিনে একবার চার্জ দিতে হবে আর কি। 😁
তো সবমিলিয়ে ব্যাটারি ব্যাকআপ আমার পছন্দ হয়নি তবে এই দামে পছন্দ না করলে সবাই আমাকে পাগল বলবে 🙁
তো এই ছিল ফোনটির খুটিনাটি বিষয় মানে এই দুই-তিন দিন ব্যবহার করে যা বুঝতে পারলাম আর কি😐 , তবে আমার দেখা সেরা ফোন হবে এই বাজেটে।
তাই আপনি যদি জাস্ট ফেসবুক মেসেঞ্জার মুভি দেখতে পছন্দ করেন তাহলে ফোনটি চোখ বুজে তুলে ফেলুন।❤️
হ্যাঁ গেম খেলা যায় তবে গেম খেললে চার্জ থাকবে না বেশি তাই যারা গেম ভালবাসেন তাদের জন্য সাজেস্ট করলাম না।😬
তো ফোনটি কিনবেন কিভাবে?
এই ফোন গুলো ঢাকার এলিফেন্ড রোড সহ বিভিন্ন রিফারবিশড মার্কেটে পাওয়া যায়।
আমি কিনেছিলাম একটি ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও দেখে ওই ভিডিওটি নিচে দিয়ে দিচ্ছি।
এবং ওদের ফোন নাম্বার ০১৭৭১৭৬৮১১৪
https://www.youtube.com/watch?v=jY9wM5F359c
আবার ভাইবেন না ওই ভিডিও মালিক আমারে লাখ লাখ টাকা দিছে ভাই
আপনারা যাতে সহজেই কিনতে পারেন তার জন্য দিলাম আর তার থেকেও বড় কথা হল এটা ট্রাস্টেড।❤️❤️❤️
এখন আমি যদি কিভাবে কিনবেন এটা না বলে দিই তাহলে কমেন্ট বক্সে উল্টাপাল্টা লিখতে শুরু করবেন আপনারা এটা আমি জানি 🙁🙁🙁 তাই দিয়ে দিলাম। ❤️
তাই প্লিজ কেউ আবার ভাইবেন না আমি স্পনসর নিয়েছি এটা কোনভাবেই কোন স্পন্সর পোস্ট ছিল না। ধন্যবাদ আশা করছি বুঝতে পারছেন।
ভালো লাগলে লাইক করুন কমেন্ট করে মূল্যবান মতামত শেয়ার করুন আজকের মত এ পর্যন্তই আল্লাহ হাফেজ ❤️❤️❤️
[ad_2]
Source Link : Click Here To View Original Post
Comments
Post a Comment